জাতীয়দেশজুড়ে

গাজীপুরে স্বাস্থ্য পরিদর্শকের একচ্ছত্র আধিপত্য: উৎকোচ না দিলে শোকজ

গাজীপুরে স্বাস্থ্য পরিদর্শকের একচ্ছত্র আধিপত্য: উৎকোচ না দিলে শোকজঃ
আব্দুল কুদ্দুস গাজীপুর,
পদে পদে হয়রানীর শিকার সাধারণ কর্মীরা, ভোগান্তিতে হতদরিদ্র সেবা প্রত্যাশীরা, তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা জানালেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাঃ

গাজীপুরের সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন ব্যক্তি সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিদর্শক জিয়াউল হক জিয়ার একচ্ছত্র প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। অভিযোগ রয়েছে, তাকে উৎকোচ না দিলে শোকজসহ নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

একাধিক স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ), সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক (এএইচএ), অফিস সহকারী ও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এর সাথে কথা বললে তারা জানায়, —”অফিস ম্যানেজ করে চলতে হয়, গ্যাঞ্জাম করে কিছু হবে না। নিয়মিত উৎকোচ দিলে সমস্যা হয় না, কিন্তু না দিলে শাস্তি অনিবার্য।”
এসময় তারা আরো জানায়, ছুটির আবেদন অনুমোদন করাতেও গুণতে হয় অর্থ। এমনকি সিগারেট, নগদ টাকা, নানা উপহারসহ তাকে ‘খুশি’ রাখতেই হয়। জিয়াউল হক বিভিন্ন সময় ক্লিনিক থেকে ওষুধ, টাকা ও নানা সুবিধা আদায় করেন। এখানেই শেষ নয় তার দূর্নীতির থাবা, ট্রেনিং-এ পাঠানো কিংবা নাম কাটানোর ক্ষেত্রেও তিনি আর্থিক লেনদেন করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, কাউলতিয়া, সদরসহ বিভিন্ন সিসি (কমিউনিটি ক্লিনিক) ঘুরে দেখা গেছে, নিয়মিত এবং সময়মতো খোলা হয়না কোন ক্লিনিক , কয়েক ঘন্টা পর খুললেও কিছু সময় পর আবার করা হয় বন্ধ, যার কারণে রোগীরা পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

এদিকে ধনঞ্জয়খালী ক্লিনিকে সিএইচসিপি না থাকলেও অদৃশ্য কোন ব্যক্তি দ্বারা এর রিপোর্ট নেয়া হয় নিয়মিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেনি জিয়া। পরিদর্শনেও নিয়মিত জাননা তারা। সিসিতে কর্মরত লোকজনদের উৎকোচের মাধ্যমে ছাড় দিয়ে থাকেন তিনি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা( টিএইচ) বা সিভিল সার্জন ( সিএস) কর্তৃক কোন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকে ( সিসি) পরিদর্শনে এলে সম্পর্ক ভালো থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আগেই তথ্য দিয়ে রাখেন জিয়া।
এ বিষয়ে এনায়েতপুর সিসির সিএইচসিপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, আগে বেতন পেয়ে নিয়মিত জিয়া স্যারকে উৎকোচ পাঠাতাম। আর এখন বেতনের অভাবে পাঠাতে পারিনা বলে, বিভিন্ন ভাবে সে আমাকে হয়রানি করছে।
এছাড়াও কারনে অকারণে মারমুখী আচরণ ও করেন তিনি।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না, তবে এটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। আমি খতিয়ে দেখবো। কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি) পরিদর্শনের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার যাতায়াত খরচ না দেওয়ার কারণে আমরা পরিদর্শন করতে পারছিনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *