নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের বৈশ্বিক পরিকল্পনা এবং কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ
ওসমান গনি বাবুল (ঢাকা থেকে): বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে আমূল পরিবর্তনের লক্ষে ২০১৭ সালে ‘নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের বৈশ্বিক পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেন লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক মো: হাসানুল আলম। তার এই বৈপ্লবিক পরিকল্পনাটি অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ এবং কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৩-এ প্রকাশিত বই আকারে পাঠকদের সামনে আসে। তবে সম্প্রতি বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ‘ভোটিং অ্যাপস’ চালুর ঘোষণার পর এই পরিকল্পনার কপিরাইট লঙ্ঘনের এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পরিকল্পনাকারী মো: হাসানুল আলম।
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার পরিকল্পনার খুঁটিনাটি এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান তুলে ধরেন।
পরিকল্পনার মূল স্তম্ভসমূহ
মো: হাসানুল আলম তার পরিকল্পনায় প্রধানত দুটি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন:
১. নির্বাচনী প্রচারণা কমিশনের অধীনে: নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করা। এতে করে নির্বাচনী সহিংসতা ও সংঘাত থেকে সমাজ রক্ষা পাবে এবং স্বল্প ব্যয়ে প্রচারণা সম্ভব হবে।
২. প্রযুক্তিনির্ভর ভোটিং অ্যাপস: প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতি বাতিল করে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে মোবাইল SMS বা অ্যাপসের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা। এতে নির্বাচনী ব্যয় ও জনবল মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা শূন্যে নেমে আসবে।
দীর্ঘ অবহেলা ও বর্তমান বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে মো: হাসানুল আলম জানান, তিনি ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কমিশনের কাছে (কেএম নূরুল হুদা কমিশন, হাবিবুল আউয়াল কমিশন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত নতুন কমিশন) এই পরিকল্পনাটি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বিক্রির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এমনকি ২০২২ সালে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছেও এটি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়।
তিনি বলেন, “বিগত কমিশনগুলো আমার এই প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। অথচ সম্প্রতি বর্তমান নির্বাচন কমিশন আমার পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ— ‘ভোটিং অ্যাপস’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আমার অনুমতি ব্যতিরেকে এবং কোনো আর্থিক মূল্যায়ন ছাড়াই এটি গ্রহণ করা সরাসরি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।”
কপিরাইট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
পরিকল্পনাকারী তার সৃজনশীল মেধা ও গবেষণার ফসল অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কপিরাইট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, তার এই পরিকল্পনাটি সংরক্ষিত। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং তাকে প্রাপ্য সম্মানি প্রদান না করে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। তিনি এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও গণতান্ত্রিক মুক্তি
মো: হাসানুল আলম আত্মবিশ্বাসের সাথে বিশ্বের সকল দেশের নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে জানিয়েছেন, তার প্রণীত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে:
শূন্য সংঘাত: নির্বাচনী কোনো প্রাণহানি বা মারামারি হবে না।
শূন্য কারচুপি: ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।
ন্যূনতম ব্যয়: হাজার কোটি টাকার নির্বাচনী ব্যয় সাশ্রয় হবে।
শতভাগ নিরাপত্তা: ভোটাররা ঘরে বসেই বা প্রবাস থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, এই ‘বৈশ্বিক পরিকল্পনা’ বিশ্ববাসীকে একটি নিরাপদ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক উপহার দিতে সক্ষম। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই মেধাস্বত্ব বা কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উৎস: মোহাম্মদ হাসানুল আলম প্রণীত‘নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন বৈশ্বিক পরিকল্পনা’ (কপিরাইট সংরক্ষিত/ডিসেম্বর-২০১৭)




