আন্তর্জাতিক

কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

উপসাগরীয় অঞ্চলে সোমবার (২ মার্চ) তৃতীয় দিনের মতো ইরানের হামলা চলার মধ্যে কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে উড়োজাহাজগুলোতে থাকা আরোহীরা বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

দুর্ঘটনার পরপরই কুয়েতি কর্তৃপক্ষ দ্রুত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং বৈমানিকদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কুয়েতি সেনাবাহিনী ও মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে কারিগরি তদন্ত শুরু করেছে এবং জনসাধারণকে কেবল সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা দাবি করেছিল যে, সোমবার সকালে কুয়েতের আকাশে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি মার্কিন ‘এফ-১৫’ ফাইটার জেট ভূপাতিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে একটি বিমানকে খাড়াভাবে নিচের দিকে পড়ে যেতে দেখা গেছে, যা ইরানের এই দাবিকে জোরালো করলেও স্বতন্ত্র কোনো পক্ষ থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এই সামরিক বিপর্যয় এমন এক সময়ে ঘটল যখন গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে, ইরান প্রতিশোধ নিতে বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে বহুমুখী হামলা শুরু করেছে। এর আওতায় দুবাই, কুয়েত ও এরবিলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কাতার ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনা এবং ইসরায়েলের আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকেও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দুবাই ও আবু ধাবিতে নতুন করে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আল জাজিরা ও আরব নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট বেশ কিছু ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

আঞ্চলিক এই সংঘাত এখন আর কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। লেবানন ও কুয়েতের আকাশসীমায় মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আকাশপথের নিরাপত্তায় বড় ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে।

কুয়েতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখছে যাতে যেকোনো পরবর্তী হামলা ঠেকানো যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিধ্বংসী যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করলেও মাঠপর্যায়ে একের পর এক বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ও বিস্ফোরণের ঘটনা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা লাইভ ও দ্য ইকোনোমিক টাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *