বাংলাদেশ

Souhardo Desk,

9:23 AM, 18 December, 2021 LAST MODIFIED: 9:23 AM, 18 December, 2021

শিক্ষা ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি শিক্ষাঙ্গন,কেড়ে নেয়া হয়েছে খেলাধুলার বিকেল

-মোঃ হাসানুল আলম

আমাদের শিক্ষাঙ্গনের হালচাল সচেতন নাগরিকদের ভাবিয়ে তুলেছে।একদিকে করোনা মহামারির কারণে বিগত ১৭ মার্চ ২০২০ ইং থেকে অধ্যাবধি শিক্ষাঙ্গন বন্ধ।অন্যদিকে নতুন বছরে অটো প্রমোশনের পর স্কুল কর্তৃপক্ষের সন্তানদের ভর্তি করানোর জন্য অভিবাবকদের তাগিদ দিয়ে মোবাইল এসএমএস প্রদান করা হয়।উল্লেখ করা যেতে পারে সারা বছর কোন ক্লাস না হলেও স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসের বেতন নিয়েছে।স্কুল কর্তৃপক্ষের এ বছর সেশন ফিস্ সহ নতুন ক্লাসে সন্তানদের ভর্তি করাতে অভিবাবকদের বাধ্য করেছেন।এ বিষয়ে সারাদেশে ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবক মহল।এছারাও আছে শিক্ষার্থীদের বোর্ডের বইয়ের বাইরে  বাড়তি বইয়ের বোঝা।প্রত্যেক স্কুলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বই  বাংলাদেশের  নির্দিষ্ট  বই সরকার বিনামূল্যে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিতরণ করেছে। কিন্তু তারপরেও প্রত্যেক স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রকাশকের বই পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভূক্ত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হয়েছে । অভিজ্ঞ মহল মনে করেন  শিক্ষার্থীদের উপর ’বাড়তি বই’ চাপিয়ে দেয়ার পিছনে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সহায়তা নয় বরং স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রকাশক গোষ্ঠীর কমিশন  বাণিজ্যই অন্যতম কারণ-যা তদন্তের অপেক্ষা রাখে। অন্ততঃ দুখঃ ও পরিতাপের বিষয় ,এ বিষয়ে শিক্ষা   মন্ত্রণালয় রহস্যজনক কারণে  নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বাড়তি বইয়ের বোঝা  থেকে শিক্ষার্থীদের রেহাই দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু স্বার্থান্বেষী শিক্ষা  ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে তার অনুরোধ ও নির্দেশ বাস্তবে পালিত হচ্ছেনা ।বইয়ের সংখ্যা বেশী হলেই যে শিক্ষার মান উন্নত হয়না তার প্রমাণতো আমাদের শিক্ষার্থীদের অর্জিত বর্তমান জ্ঞানের বহর দেখেই বোঝা যায়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও এখন দেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো শিক্ষা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। স্কুল পড়ুয়া শিশু কিশোরদের আজকাল বিকেল বেলা আর খেলাধূলা করার সময় নেই।বরং তাদের ছুটতে হচ্ছে কোচিং সেন্টারে। এইসব কোচিং সেন্টারের সাথে শিক্ষক সম্প্রদায়ের একটি গোপন সমঝোতা আছে বলে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। নোট বই ,গাইড বই আর কোচিং সেন্টার নির্ভর এখন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। এছাড়াও আছে ’ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দের বাহারী অপব্যবহার । আজকাল রাজধানীসহ দেশের উপজেলা  পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল লেবেল আঁটা হরেক রকম কিন্ডার গার্টেন ও অন্যান্য ধরনের স্কুলের রমরমা ব্যবসা চলছে। এসব স্কুলের মান নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কোন ভূমিকা নেই। শিক্ষা বিভাগে স্কুল ইন্সপেক্টর পদবীর একজন কর্মকর্তা আছেন যার কাজ দেশের স্কুলগুলোতে পরিচালিত শিক্ষার মান যাচাই করা ও প্রয়োজনে পরামর্শ  দেয়া। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। স্কুল ইন্সপেক্টর সাহেব এখন শিক্ষাঙ্গনে স্রেফ ‘ডুমুরের ফুল’।একটি জাতির উন্নয়নের জন্য অপরিহার্যতার মানবসম্পদ উন্নয়ন যা  একমাত্র শিক্ষাই দিতে পারে ।আমাদের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে চলছে নৈরাজ্য ও নানা রকমের দূর্নীতি।



You have to login to comment this post. If You are registered then Login or Sign Up