বাংলাদেশ

Souhardo Desk,

2:07 AM, 13 December, 2021 LAST MODIFIED: 2:07 AM, 13 December, 2021

উন্নত প্রযুক্তিতে দেশেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একঝাঁক এসএমই উদ্যোক্তা আমাদের প্রতিনিয়ত চমৎকৃত করে চলেছেন। তাঁদের কেউ কেউ চোখের সামনে কারখানা আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরও ভেঙে পড়েন না, কেউ কেউ মিথ্যা অপবাদে নিঃস্ব হলেও ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠেন, কেউ কেউ সোনালি আঁশের নবজাগরণের জন্য কাজ করেন। রকম সাধারণের মাঝে অসাধারণ ছয়জন স্বপ্নজয়ী উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছেআইডিএলসি-প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার ২০২১

যুক্তরাজ্যে পিএইচডি গবেষণার সময় . খোন্দকার সিদ্দিক--রব্বানী বুঝতে পারেন, দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে যথাযথ প্রযুক্তি দরকার। আর সে কাজের জন্য দেশেই ফিরতে হবে। তাই বিদেশে চাকরি না করে দেশে ফিরে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে, ১৯৭৮ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর পাশাপাশি শুরু করেন গবেষণার কাজ। উদ্দেশ্য একটাইপ্রযুক্তি দিয়ে বাংলাদেশের গণমানুষের জীবনমান উন্নত করা।

 

১৯৮৮ সালে বানালেন দেশের প্রথম কম্পিউটার ইলেকট্রনিক-ভিত্তিক ইএমজি-নার্ভ কন্ডাকশন ডিভাইস, স্নায়বিক রোগ নির্ণয়ের একটি জরুরি মেডিকেল যন্ত্র। নিজ হাতে যন্ত্র তৈরিতে . রব্বানীর আগ্রহ দেখে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাঁকে এর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অভিজ্ঞতা অর্জনে বিশেষ সহায়তা করেন। . রব্বানী ইলেকট্রনিকসের আরও কিছু সামগ্রী তৈরি করছেন, যা দেশের মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে জীবনমানের উন্নত করতে পারে। ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এসব সামগ্রী তৈরি তার বাণিজ্যিক বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে সফলও হন। ২০০২ সাল থেকে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো ১৯৭৮ থেকে করে আসা স্বাস্থ্যসেবায় পদার্থবিজ্ঞান ইলেকট্রনিকসের ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় আরও মনোযোগী হন। বিষয়ে তাঁর দুটি উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি লাভ করে, কিন্তু পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষের বঞ্চনায় পেটেন্টের অবদান আছে ভেবে তিনি কোনো পেটেন্ট নেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেনবায়োমেডিকেল ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজিবিভাগ। শিক্ষার্থীদের মধ্য একদল উদ্যমী তরুণ গবেষক তাঁর দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন গবেষণার ফলাফলকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ২০১১ সাল থেকে এগিয়ে আসে সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়। তখন থেকে তারা গবেষণায় সহায়তা করে যাচ্ছে, যার কারণে এসব ত্যাগী তরুণকে কিছু ভাতা দেওয়াও সম্ভব হয়।

উদ্যোগী তরুণদের সঙ্গে নিয়ে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাইবিট লিমিটেড, বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় নিজেদের উদ্ভাবিত পরিমার্জিত স্বাস্থ্যসহায়ক যন্ত্রপাতিকে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি বিতরণের উদ্দেশ্যে। এটিও করেন ব্যতিক্রমী একটি ধারায়বাইবিটের কোনো মালিক নেই, কেউ এর মুনাফা নিতে পারবে না। ফলে ব্যাংক থেকে মূলধন পাওয়ার কোনো উপায় থাকল না, কিন্তু নিজেদের প্রযুক্তির ওপর বিশ্বাস রেখে তাঁরা এগিয়ে যান। বাইবিট এরই মধ্যে অধ্যাপক রব্বানী তাঁর সহযোগী গবেষকদের উদ্ভাবিত ১৫টির মতো যন্ত্র বাজারজাত করেছে, যার সব কটি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত।হাসপাতালে করোনার রোগীদের থেকে চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের যেন সংক্রমণ না হয়, সে জন্য বানিয়েছেন নেগেটিভ প্রেশার আইসোলেশন ক্যানোপি। আবার বাইরের সংক্রমণ থেকে বার্ন ইউনিটের পোড়া রোগীকে নিরাপদ রাখার জন্য তৈরি করেন পজিটিভ প্রেশার আইসোলেশন ক্যানোপি, যেটি পৃথিবীতে প্রথম। এই কদিন আগেও ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, ধরনের ক্যানোপি ব্যবহার করলে তা হতো না।



You have to login to comment this post. If You are registered then Login or Sign Up